ঢাকাশনিবার , ৪ জুন ২০২২
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আর্ন্তজাতিক
  5. ইসলাম
  6. ক্রিকেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. জানা অজানা
  12. টিপস
  13. ঢাকা
  14. তথ্য ও প্রযুক্তি
  15. দুর্ঘটনা
সর্বশেষ সবখবর

২০ ফুট বালুর নিচ থেকে খুনি নিজেই তুলে দিলো লাশ

Link Copied!

ব্যবসার পাওনা টাকার জের ধরে ডেকে নিয়ে নিজের গ্যারেজে হত্যা করা হয় অনুপ বাউল নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে। হত্যার পর লাশ একটি ড্রামে ভরে খুনিরা। পরে সেই লাশ কেরানীগঞ্জের জৈনপুর থেকে নিয়ে যায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকার বোয়ালখালীতে। সেখানে বিসিক শিল্প নগরীতে বালু ভরাটের কাজে নিজের ভেকু দিয়ে কাজ করছিল এক খুনি। ভেকু দিয়ে প্রায় ১৬ ফুট নিচে চাপা দেওয়া হয় অনুপ বাউলের লাশ। পাঁচ মাস পর বুধবার (১ জুন) মধ্যরাতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর সেই খুনি নিজেই ভেকু দিয়ে তুলে দিলো অনুপ বাউলের লাশ।

Advertisements

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পিবিআই’র প্রধান বনজ কুমার মজুমদার জানান, আলোচিত এই ঘটনায় চার খুনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো— রিপন মণ্ডল, নয়ন মণ্ডল, পিযুষ করাতি ও দিলীপ মণ্ডল। রিপন, নয়ন ও দিলীপ চাচাতো-মামাতো ভাই। আর পিযুষ হলো রিপনের ভেকুর ড্রাইভার। তারা পরিকল্পিতভাবে অনুপকে হত্যার পর লাশ গুম করে। রিপন ও নয়নের সঙ্গে অনুপের টাকা-পয়সা ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল।

পিবিআই কর্মকর্তারা আরো জানান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা অনুপ মণ্ডল পেশায় স্বর্ণের ব্যবসায়ী। তার ব্যবসায়িক পার্টনার হলো নয়ন মণ্ডল। মাস ছয়েক আগে নয়নের সঙ্গে ব্যবসার বিষয় নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। এর আগে নয়নের মাধ্যমে অনুপ তার চাচাতো ভাই রিপনকে ভেকু কেনার জন্য ১০ লাখ টাকা দেয়। প্রতি মাসে অনুপকে ৩০ হাজার টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার কথা ছিল। রিপন তিনটি ভেকু দিয়ে ভাড়ায় বিভিন্ন জায়গায় মাটি ও বালু কাটার কাজ করলেও অনুপকে কোন টাকা পয়সা দিচ্ছিল না। এ নিয়ে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। পাওনা টাকা না দেওয়া ও নয়নের কাছে থাকা কিছু স্বর্ণ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তারা অনুপকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

অনুপ বাউল                                                                           নিহত অনুপ বাউলপিবিআই কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি অনুপ তার শ্বশুরবাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে কেরানীগঞ্জের জৈনপুরের বাসা হয়ে ব্যবসার পার্টনার নয়নের সঙ্গে মাদারীপুরে যাওয়ার কথা ছিল। মাদারীপুরের এক ব্যবসায়ীর দেওয়া স্বর্ণ ছিল তার কাছে। কিন্তু ওই দিন শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন অনুপ বাউল। স্বজনরা তাকে খুঁজে না পেয়ে সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং ১৯৬) দায়ের করে। বিষয়টি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় থানা পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও পিবিআইও অনুসন্ধান শুরু করে। পরে কোনও হদিস না পেলেও অনুপ বাউলের মোবাইল ফোনটি তার বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে পাওয়া যায়। ঘটনার প্রায় এক মাস পর ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে অনুপ বাউলের ছোট ভাই বিপ্লব বাউল বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা (নম্বর ৪) দায়ের করেন। থানা পুলিশের তদন্তের পর পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় পিবিআই ঢাকা জেলার ওপর।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই ঢাকা জেলার উপ-পরিদর্শক সালেহ ইমরান জানান, মামলার তদন্তভার হাতে পাওয়ার পর তিনি অনুপের ব্যবসায়িক পার্টনারসহ কাছের মানুষদের নজরদারি করতে শুরু করেন। ঘটনার পর থেকেই তার ব্যবসায়িক পার্টনার নয়ন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থেকে অনুপকে খুঁজে বের করার কাজে সহায়তা করছিল। কিন্তু নয়নকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার দিন তার অবস্থানের তথ্যে গরমিল পান তদন্ত কর্মকর্তা।

সালেহ ইমরান জানান, তিনি তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নয়নের অবস্থান অনুপ বাউল যে সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেছেন, সেই একই সড়কে পেলেও নয়ন তাদের জানায়—তার সঙ্গে ওই দিন অনুপের সাক্ষাৎই হয়নি। পরে তদন্ত কর্মকর্তা নয়নের কাছে জানতে চান, ঘটনার দিন সকাল থেকে সে কী কী করেছে? একপর্যায়ে নয়ন জানায়, তারা জৈনপুর এলাকা থেকে একটি ড্রাম নিয়ে তার চাচাতো ভাই রিপন, দিলীপ ও আরেক সহযোগীসহ সিরাজদিখানের বোয়ালখালী গিয়েছিলেন। ওই ড্রামে ভেকুতে ব্যবহারের জন্য গ্রিজ ছিল। এরপর যে অটো ভ্যান দিয়ে ড্রাম নেওয়া হয় সেই চালককে খুঁজে বের করে তার সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবির করাতি নামে ওই অটো-ভ্যানচালক জানায়, তার ভ্যানে একটি ড্রাম নেওয়া হলেও সেটি তাকে ধরতে দেয়নি নয়ন ও রিপনরা। তারা ড্রামটি সিরাজদিখানের একটি ঘাটে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ড্রামটি একটি নৌকায় তুলে নেওয়া হয়।

অনুপ বাউল নিখোঁজ থাকায় তার সন্ধান চেয়ে এলাকায় পোস্টার লাগায় স্বজনরা                          অনুপ বাউল নিখোঁজ থাকায় তার সন্ধান চেয়ে এলাকায় পোস্টার লাগায় স্বজনরাতদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, বিষয়টি তার কাছে অস্বাভাবিক লাগে। এই তথ্য পাওয়ার পরই তিনি ধারণা করেন, অনুপ বাউলকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। সন্দেহভাজন হিসেবে নয়ন, রিপন, দিলীপ ও পিযুষকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। পরে তাদের দেখানো মতে, ভেকুর মালিক রিপন তার ভেকু দিয়ে বালু খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করে দেয়।

যে কারণে হত্যা

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে খুনিরা জানিয়েছে, নয়নের সঙ্গে অংশীদারিতে স্বর্ণের ব্যবসা করতো অনুপ বাউল। অনুপ বিভিন্ন জায়গা থেকে স্বর্ণ এনে নয়নকে দিতো। নয়ন সেই স্বর্ণ দিয়ে অলংকার বানিয়ে দিতো। মাস ছয়েক আগে অনুপ এক ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ এনে দিলেও নয়ন তা যথাযথভাবে ডেলিভারি দেয়নি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এছাড়া নয়নের কথামতো অনুপ রিপনকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিল একটি ভেকু কিনতে। বিনিময়ে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। প্রথম কয়েক মাস টাকা দিলেও ৫-৬ মাস ধরে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয় রিপন। এ নিয়ে অনুপ নয়নকে দোষারোপ করে এবং ১০ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।

যেভাবে পরিকল্পনা হত্যার করা হয়

গ্রেফতার হওয়া নয়ন জানিয়েছে, ঘটনার দুই-তিন দিন আগে রিপনের সঙ্গে বসে সে অনুপকে হত্যার পরিকল্পনা করে। নয়নের পরিকল্পনায় রিপন রাজি হয়ে যায়। কারণ, অনুপকে হত্যা করা হলে তাকে আর ১০ লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে না। তাদের এই হত্যা পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয় আরেক ফুপাতো ভাই দিলীপকে। সঙ্গে ছিল ভেকুর আরেক চালক পিযুষ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৪ জানুয়ারি মাদারীপুর যাওয়ার কথা বলে অনুপকে ডেকে আনে নয়ন। তারা একসঙ্গে প্রথমে রিপনের ভেকু রাখার গ্যারেজে গিয়ে বসে। সেখানে তারা বসে চা খায়। একপর্যায়ে রিপন পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে অনুপকে একটি চকির ওপরে ফেলে দেয়। একইসঙ্গে মুখ চেপে ধরে গলায় পুরনো কাপড় পেঁচিয়ে ধরে। এ সময় নয়ন, দিলীপ ও পিযুষ মিলে অনুপের হাত-পা শক্ত করে ধরে রাখে। কয়েক মিনিটের মধ্যে অনুপ নিস্তেজ হয়ে গেলে তারা লাশটি দ্রুত একটি ড্রামে ভরে ফেলে। পরে একটি অটো-ভ্যান ডেকে এনে লাশভর্তি ড্রামটি বিসিক শিল্প নগরীতে বালু কাটার কাজের জায়গায় নিয়ে যায়। রিপন নিজেই তার ভেকু দিয়ে একটি খালে প্রায় ৬ ফুট গর্ত করে লাশটি সেখানে পুঁতে রাখে। পরে প্রায় ১৬ ফুট বালুচাপা দেওয়া হয়।

গ্রেফতার হওয়া আসামিরা জানায়, তাদের ধারণাই ছিল না যে এত নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করতে পারবে কেউ। আর লাশ উদ্ধার করতে না পারলে মামলা দিয়েও আটকানো যাবে না।

পিবিআই কর্মকর্তা সালেহ ইমরান জানান, লাশ পুঁতে রাখার জায়গাটি খুঁজে পেতে তাদের অনেক বেগ পেতে হয়েছে। প্রায় ২০০ একর জমিতে বালু ফেলা হয়েছে। তারা অনেক কষ্টে আসামিদের চাপ দিয়ে লাশটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। এখন দ্রুততম সময়ে মামলাটির তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

Advertisements

  বর্ণমেলা প্রিন্টার্স এন্ড ক্রেস্ট গ্যালারী আমাদের সেবা সমূহ:- ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক, মগ, মেডেল, আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, ক্যালেন্ডার, পোস্টার, পিভিসি ব্যানার, ষ্টিকার সহ সকল প্রকার ছাপার কাজ করা হয় এবং সকল প্রকার সীল তৈরি ও যে কোন অনুষ্ঠানের গেঞ্জী, টিশার্ট প্রিন্ট করা হয়। ঠিকানা: সিডষ্টোর বাজার, ভালুকা, ময়মনসিংহ, মোবাঃ ০১৭১৫২৫৩৩৮৫, E-mail: bornamela03@gmail.com
Translate »