ঢাকাশনিবার , ৩ জুলাই ২০২১
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আর্ন্তজাতিক
  5. ইসলাম
  6. ক্রিকেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. জানা অজানা
  12. টিপস
  13. ঢাকা
  14. তথ্য ও প্রযুক্তি
  15. দুর্ঘটনা
300x250
সর্বশেষ সবখবর

ঝর্ণার রাণী বান্দরবানের জাদিপাই ঝর্ণা

বর্ণমেলা নিউজ
জুলাই ৩, ২০২১ ২:১৭ পূর্বাহ্ন
Link Copied!

জাদিপাই ঝর্ণাতাই সকল দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তারা আস্বাদন করে অপরূপ সব ঝর্ণার সৌন্দর্য। অনেক সৌন্দর্যের এক উপাখ্যান বান্দরবানের ঝর্ণাগুলোর রূপ স্বপ্নিল সৌন্দর্যকেও হার মানায়। ঝর্ণা প্রেমীদের তাই প্রিয় একটি ভ্রমণ গন্তব্য হল বান্দরবান। আর এই বান্দরবানের গহীন অরণ্যে অবিরাম বয়ে চলা অসাধারণ একটি ঝর্ণা হল জাদিপাই ঝর্ণা। এই ঝর্ণাটিকে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ঝর্ণা। ঝর্ণার রাণী জাদিপাই এর সৌন্দর্য যদি এখনো দেখে না থাকেন তাহলে খুব শীঘ্রই দেখে আসুন অপরূপ এই ঝর্ণাটি।

Advertisements

বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার জাদিপাই পাড়ায় অবস্থিত এই পাহাড়ি ঝর্ণাটি। এই ঝর্ণার প্রতি ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে মাদকতাময় সৌন্দর্য।

মধুর কলকল ধ্বনিতে বয়ে নামা এই ঝর্ণার রূপে রয়েছে সৌন্দর্যের ভিন্ন ছোঁয়া। উঁচু পাহাড় আর চারদিকে গহীন অরণ্য। নির্মল এক নিস্তব্ধতা চারপাশে। তারই মাঝে পাহাড়ের বুক চিরে স্বচ্ছ শীতল ধারা পাথর বেয়ে নিছে নেমে আসছে। জাদিপাই এর এই অপার সৌন্দর্য বিমোহিত করে ভ্রমণ প্রেমীদের। এর এক পাশে বিশাল সুউচ্চ ‘কেউক্রাডং’ পাহাড় আর বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর আদিবাসীদের গ্রাম ‘পাসিং পাড়া’।

জাদিপাই ঝর্ণা
পাসিং পাড়া বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার গ্রাম। পাড়াটা মেঘের ওপরে, বর্ষাকালে যখন ঝুমবৃষ্টি হয়, তখন এই পাড়ায় অনেক সময়ই বৃষ্টি পড়ে না, বৃষ্টি শুরুই হয় এর নিচ থেকে। পাসিং পাড়ার নিচেই জাদিপাই পাড়া। সবুজে মোড়ানো এক অনিন্দ্য সুন্দর গ্রাম হল জাদিপাই পাড়া। আর সে পাড়া পার হলেই পেয়ে যাবেন জাদিপাই ঝর্ণা।

এই ঝর্ণাটি বাংলাদেশের আর সব ঝর্ণা থেকে আলাদা।

অন্য সব ঝর্ণার পানি পড়ে লম্বালম্বি করে আর জাদিপাইয়ের পানি পড়ে সিঁড়ির মতো স্তরে স্তরে। এই ঝরনার চারপাশে অনেক উঁচু উঁচু বিশাল সব গাছের দেয়াল একে আড়াল করে রেখেছে আর সবার কাছ থেকে। এই গাছের জন্য একেবারে কাছে গেলেও একে দেখার উপায় নেই, জাদিপাইকে খুঁজে বের করতে হয় এর পানি পড়ার একটানা ঝিরঝির শব্দ দিয়ে। বর্ষাকালে সেকেন্ডে কয়েক টন পানি পড়তে থাকা এই ঝর্ণার সৌন্দর্য অপার্থিব রূপ লাভ করে। সূর্যকিরণ পড়তেই তৈরি হয় বর্ণিল রংধনু।

এখানে একসঙ্গে অনেক রংধনু দেখতে পাবেন। স্বর্গীয় সৌন্দর্য যেন নেমে এসেছে পৃথিবীর বুকে। সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে পড়তে থাকা ঠাণ্ডা পানি কাঁপন ধরিয়ে দেয় শরীরে। আশ্চর্য রকম অদ্ভুত সুন্দর জাদিপাই ঝরনায় সত্যিই জাদু আছে। বিশাল এই ঝরনার আকার, আকৃতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে এক মায়ার জাদুতে জড়িয়ে ফেলবে। ঝরনার জলে ভিজে মন-প্রাণ জুড়াতে পারবেন আপনি।

সোজাসুজি পানি পড়ে না বলে অন্য সব ঝর্ণা থেকে এই ঝর্ণা অনেক নিরাপদ, ওপর থেকে ভারী কিছু মাথায় পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

জাদিপাইয়ের সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, একে পাহারা দিয়ে রেখেছে অগুনিত বানরের এক চৌকস দল, তাদের কাজই হলো খানিক পরপর পাহাড়ের মাথায় বসে ঝরনার নিচের দিকে তাকিয়ে পাহারা দেয়া। বানরের দল ছাড়াও জাদিপাইতে দেখার মতো আরও অনেক কিছু আছে, ঝর্ণার একপাশে একটা বিশাল মোটা গাছ অনেক বছর আগে ভেঙে পড়ে রয়েছে, তার গায়ে জমেছে বিস্তর শেওলা, সে গাছের কোঠরে বাসা বেঁধেছে একজোড়া কাঠবিড়ালী। ঝরনার পানি জমে জমে তৈরি করেছে কোমরসমান গভীর এক পুকুরের, সে পুকুরের পানি এতই স্বচ্ছ যে পায়ের আঙুলে জমে থাকা খুদে পাথরের টুকরাগুলোও অনায়াসে গোনা যাবে। মাথার ওপর বৃষ্টির মতো পড়তে থাকবে বরফ শীতল পানির কণা। আঁজলা ভরে সেই পানি আকণ্ঠ পান করতে পারবেন। একটু সাহস করলে ঝরনার কয়েকটা পাথরে আরাম করে উঠে বসে থাকতে পারবেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কুয়াশার মতো ছুটে আসা পানি মুখে-চোখে মাখতে মাখতে ভেসে যাবেন ভালোলাগার অন্য ভুবনে।জাদিপাই ঝর্ণা

যাওয়ার উপায়: আপনাকে প্রথমে বান্দরবান আসতে হবে বগা-লেক যাবার জন্যে। দেশের যেকোন জেলা থেকেই বান্দরবানের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল। ঢাকার কলাবাগান, সায়দাবাদ এবং ফকিরাপুল থেকে শ্যামলী, হানিফ, ইউনিক, এস আলম, ডলফিন ইত্যাদি পরিবহনের বাস বান্দরবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এর যেকোন একটি বাসে চড়ে সহজেই বান্দরবানের আসতে পারেন। এসব নন-এসি ও এসি বাসের জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৫৫০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান যেতে সময় লাগে ৮-১০ ঘণ্টা। এছাড়া মহানগর, তূর্ণা কিংবা চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে প্রথমে চট্টগ্রামে তারপর সোজা বান্দরবানে চলে যেতে পারেন। চট্টগ্রাম শহরের বদ্দারহাট থেকেও পূবালী ও পূর্বানী পরিবহনের নন-এসি বাস ৩০ মিনিট পরপর বান্দরবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বান্দরবান নেমে যেতে হবে কাইক্ষ্যংঝিরি। স্থানীয় বাসে বা চান্দের গাড়িতে সেখানে দুই ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন। বাসভাড়া ৮০ টাকা। চান্দের গাড়ি রিজার্ভ গেলে পড়বে তিন হাজার পাঁচশ থেকে চার হাজার দু’শ টাকা পর্যন্ত। কাইক্ষ্যংঝিরি থেকে রুমাবাজার পর্যন্ত নৌকাভাড়া জনপ্রতি ৩০ টাকা। রিজার্ভ গেলে এক হাজার টাকা। রুমা থেকে যেতে হবে বগা লেক পর্যন্ত। এখানে চান্দের গাড়ি ভাড়া দুই হাজার টাকার মতো।জাদিপাই ঝর্ণা

জাদিপাই যেতে হলে আপনাকে এই রুট ধরেই যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে গাইড ভাড়া বাবদ খরচ পড়বে ২ হাজার ৫০০ টাকা। বগা লেকে গাড়ি থেকে নেমে পাহাড় ডিঙিয়ে উঠতে পারেন ‘সিয়াম দিদি’র হোস্টেলে। সেখান থেকে শুধুই হাঁটাপথ। চিংড়ি ঝরনা, দার্জিলিংপাড়া, কেওক্রাডং, পাসিংপাড়া আর জাদিপাইপাড়া পার হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে যাবেন জাদিপাই ঝর্ণাতে।

থাকার উপায়: জাদিপাই পাড়াতে থাকার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। আপনি বগালেকে থাকতে পারেন। বগালেকে উন্নতমানের কোন হোটেল বা রিসোর্ট নেই। আদিবাসীদের ছোট ছোট কিছু কটেজ আছে। আপনাকে সেই সব কটেজের কোন একটায় থাকতে হবে। একেবারে প্রাকৃতিক পরিবেশে আদিবাসীদের এই কটেজ গুলোতে থাকতে জনপ্রতি খরচ হবে ১০০-২০০ টাকা করে। এক রুমের কটেজে ৫-৬ জন থাকা যাবে। এছাড়া কাপল কিংবা মহিলাদের জন্য চাইলে আলাদা কটেজের ব্যবস্থা করা যায়।

Advertisements

বর্ণমেলা প্রিন্টার্স এন্ড ক্রেস্ট গ্যালারী আমাদের সেবা সমূহ:- ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক, মগ, মেডেল, আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, ক্যালেন্ডার, পোস্টার, পিভিসি ব্যানার, ষ্টিকার সহ সকল প্রকার ছাপার কাজ করা হয় এবং সকল প্রকার সীল তৈরি ও যে কোন অনুষ্ঠানের গেঞ্জী, টিশার্ট প্রিন্ট করা হয়। ঠিকানা: সিডষ্টোর বাজার, ভালুকা, ময়মনসিংহ, মোবাঃ ০১৭১৫২৫৩৩৮৫, E-mail: bornamela03@gmail.com
https://www.allbanglanewspaper.co/en/