ঢাকাবুধবার , ৪ অগাস্ট ২০২১
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আর্ন্তজাতিক
  5. ইসলাম
  6. ক্রিকেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. জানা অজানা
  12. টিপস
  13. ঢাকা
  14. তথ্য ও প্রযুক্তি
  15. দুর্ঘটনা
300x250
সর্বশেষ সবখবর

বাবার দেয়া ১০ টাকা থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার মালিক

বর্ণমেলা নিউজ
অগাস্ট ৪, ২০২১ ১:৫৮ পূর্বাহ্ন
Link Copied!

ঢাকা: পারিবারিক আর্থিক অনটনে মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে মাদারীপুরের শিবচর থেকে লঞ্চে চড়ে আসেন ঢাকায়। বাড়ি থেকে বিদায় নেয়ার আগে দরিদ্র বাবা হাতে তুলে দেন মাত্র ১০ টাকা। এরপর এলাকার পরিচিত এক বড় ভাইয়ের খোঁজে নারায়ণগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে ঢাকার টানবাজারে আসেন পায়ে হেঁটে। সময়টা ছিল ১৯৭৫ সাল। সেই এলাকার ভাইকে টানবাজারে খুঁজে পেলেন রাশি রাশি সুতা গতিতে। সেখান রব ভূঁইয়ার গদি থেকে এক বান্ডিল সুতা (১০ পাউন্ড) বাকিতে কিনে এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করলেন। তাতে মুনাফা হলো ৪ টাকা। সেই পথচলা শুরু করে তিনি আজ দেশের বস্ত্র খাতের শীর্ষ রপ্তানিকারকদের একজন ‘বাদশা মিয়া’।

Advertisements

শুধু তাই নয়, গত ৪৬ বছরে নিজের অক্লান্তু পরিশ্রম দিয়ে গড়ে তুলেছেন বাদশা টেক্সটাইল, কামাল ইয়ার্ন, পাইওনিয়ার নিটওয়্যার ও পাইওনিয়ার ডেনিম নামের চারটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ময়মনসিংহের ভালুকা ও হবিগঞ্জে বাদশা মিয়ার চার কারখানায় কাজ করেন ২৫ হাজারের বেশি কর্মী। বার্ষিক লেনদেন ৪০ কোটি ডলারের বেশি, যা দেশীয় মুদ্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যার পুরোটাই সরাসরি বা প্রচ্ছন্ন রপ্তানি অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা। টানা পাঁচবার রপ্তানি ট্রফি পেয়েছে বাদশা টেক্সটাইল ও কামাল ইয়ার্ন।

জীবনের এমন উত্থান-পতনের গল্প নিজের মুখে শুনালেন ষাটোর্ধ্ব বাদশা মিয়া। বাদশা মিয়ার ইচ্ছা, তার ঘাম ঝরানো প্রতিষ্ঠানটি টিকে থাক শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে। যেকারণে পড়াশোনা শেষে দুই ছেলে কামাল উদ্দিন আহমেদ ও মহিউদ্দিন আহমেদকে নিজের সঙ্গে রেখেছেন বাদশা। তিনি চান আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হোক। সে জন্য ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে করপোরেট সংস্কৃতির চর্চা গড়ে তুলছেন। তবে নেতৃত্বে চাবিটা সব সময় নিজেরা হাতেই রাখছেন।বললেন, বেশি বেশি আরাম-আয়েশ করলে প্রতিষ্ঠান ধসে পড়ে। প্রতিষ্ঠানকে টেকসই করতে হলে কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিশ্রম করতে হয়। এর বিকল্প কোনো বুদ্ধি নেই। তাই মাঝ রাতেও কারখানায় চলে আসেন বাদশা গ্রুপের কর্ণধার।

কিশোর বয়সে টানবাজারে আসার পর দ্রুতই ব্যবসা বাড়তে থাকে বাদশা মিয়ার। তখন সুতা বেচাকেনা বলতে ছিল দালালি প্রথা। এক দোকানের সুতা অন্য দোকান বা ক্রেতার কাছে বিক্রি করে কমিশন পাওয়া যেত। এক বেল সুতা (৪৮০ পাউন্ড) বিক্রি করতে পারলে ৭ টাকার মতো আয় হতো। প্রথম দিকে সুতার দালালি করে ভালো অর্থ উপার্জন করেন বাদশা মিয়া।

বাদশা মিয়া বলেন, ‘শুরুর দিকে আমার টাকাপয়সা ছিল না। গাজীপুরের কাশেম কটন মিলের নির্বাহী পরিচালক মঈনুল ইসলাম সাহেব আমাকে স্নেহ করতেন। ১-২ বেল সুতা আমার নামে বরাদ্দ দিতেন। সেই সুতা জয়দেবপুর পর্যন্ত গরুর গাড়িতে করে এনে বাসে ওঠাতাম। তারপর ফুলবাড়িয়া স্টেশন পর্যন্ত এসে বাস বদল করে নারায়ণগঞ্জে নিতাম। এভাবে বেশ কিছুদিন ব্যবসা করেছি।’

১৯৭৬ সালে পাইকারি সুতা বিক্রির লাইসেন্স করেন বাদশা মিয়া। টানবাজারে ভাড়ায় গদি নেন এবং কয়েক মাসের ব্যবধানে ভালো একটি জায়গায় সেটিকে স্থানান্তর করেন। তখন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) আশরাফ, জিনাত, মন্নু, অলিম্পিয়া, কাদেরিয়াসহ কয়েকটি বস্ত্রকল থেকে সরাসরি সুতা কিনে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি শুরু করেন। বিভিন্ন হাটেও সুতা বিক্রি করেছেন।

বাদশা মিয়া বলেন, ‘বেশি মুনাফার আশায় টেক্সটাইল মিল থেকে সুতা নিয়ে সরাসরি হাটে হাটে দৌড়াতাম। আবার অনেক সময় রাতের বাসে বিভিন্ন জেলার বস্ত্রকলে চলে যেতাম। পরদিন বস্ত্রকল থেকে সুতাভর্তি ট্রাক নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ফিরতাম।’

মাত্র ৬ বছর সুতার ব্যবসা করে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে যান বাদশা মিয়া। ১৯৮৩ সালে একসঙ্গে চার-পাঁচটি বস্ত্রকলের সুতা বিক্রির একক এজেন্ট হন। তখন একেকটি মিলে এজেন্ট হতে ৫০ লাখ টাকা জামানত দিতে হতো। এজেন্ট হওয়ার পর ব্যবসা আরও দ্রুত বাড়তে থাকে তার।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে পোশাক কারখানায় সফল হওয়ার পর বস্ত্রকল করার দিকে মনোযোগ দিলেন বাদশা মিয়া। ভালুকায় ১০০ বিঘা জমির ওপর বস্ত্রকল শুরু করেন ২০০৩ সালে। ধীরে ধীরে সেটি আবার বড় হতে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে হবিগঞ্জে আড়াইশ’ বিঘা জমির ওপর ডেনিম কাপড় উৎপাদনের কারখানা করেন। সেখানে তার বিনিয়োগ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

১৯৮৬ সালে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটীতে নিজের জমিতে পোশাক কারখানা করার পরিকল্পনা করেন। মেশিনপত্রও কিনে আনেন। শেষ পর্যন্ত সাহস করলেন না। মেশিনপত্র দিলেন বিক্রি করে। আবার দোকানদারিতেই মনোযোগ দিলেন। অবশ্য সেখানে টুস্টিং কারখানা- মানে সুতা ডাবলিং বা মোটা করার কারখানা দেন। চাদর বুনতে সেই টুস্টিং সুতার ছিল বেশ কদর।

১৯৮৫ সালে ভাইদের নিজের ব্যবসায় নিয়ে আসেন। তখন কিছুটা স্থির হন বাদশা মিয়া। পরের বছর ভারত থেকে তুলা আমদানি শুরু করেন। অবশ্য এর আগে সুতা আমদানিতে হাত পাকান বাদশা মিয়া। ধীরে ধীরে টানবাজারের ‘বাদশা’ অর্থাৎ বড় ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন বাদশা মিয়া। আসমা বেগমকে বিয়ে করেন। নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় নিজের বাড়ি নির্মাণ হয়ে গেছে। টানা দুবার টানবাজারের সুতা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

১৯৯৭ সালে স্কয়ার টেক্সটাইলের সুতার এজেন্ট হিসেবে ঢাকায় আসেন পাকাপাকিভাবে। তার সূত্র ধরেই ১৯৯৯ সালে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটীতে ৪০০ মেশিন দিয়ে সোয়েটার কারখানা করলেন। অবশ্য ১০ বছর পর সেটিকে ভালুকায় স্থানান্তর করেন। বর্তমানে কারখানায় মেশিনের সংখ্যা ২ হাজার। কাজ করেন ১৫ হাজার শ্রমিক।

সুতার থেকে এরপর পোশাকশিল্পের পেছনে ছুটেন বাদশা মিয়া। তিনি, ‘পোশাক খাতের পশ্চাৎমুখী শিল্পে ধীরে ধীরে মুনাফা কমে আসতে থাকে। তাছাড়া পোশাক কারখানার মালিকেরা অধিকাংশই সুতার দাম সময়মতো পরিশোধ করতেন না। সে জন্য একরকম জেদ করেই পোশাক কারখানা করে ফেলি।’ ভালুকায় ১০০ বিঘা জমির ওপর বস্ত্রকল শুরু করেন ২০০৩ সালে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে হবিগঞ্জে আড়াইশ’ বিঘা জমির ওপর ডেনিম কাপড় উৎপাদনের কারখানা করেন। সেখানে তার বিনিয়োগ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

এর পেছনেও রয়েছে একটি গল্প জানালেন বাদশা মিয়া। বললেন, ‘ব্যবসা করতে গিয়ে দেখলাম তুলা থেকে সুতা উৎপাদনের প্রতিটি স্তর আমার প্রায় মুখস্থ। সেখানে আমরা সুতা বেচে পাই ২ আনা, আর মিলমালিকেরা পান ২ টাকা। তাছাড়া তখনকার সময়ের সব কটি টেক্সটাইল মিলে ঘুরেছি। তবে একটি স্বপ্ন আমি সব সময় দেখতাম ‘ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল শিল্প গড়ব। সেখানে অনেক লোক কাজ করবেন। আমি সব সময় আমার স্বপ্নের পেছনে ছুটেছি। তা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।’

বাদশা মিয়া নিজেকে কামলা দাবি করে বলেন, ‘আমি হলাম কামলা (খেটেখাওয়া) মানুষ। কারখানায় কাজ করতেই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই দিনের জন্য হলেও ভালুকা বা হবিগঞ্জে কারখানায় গিয়ে থাকি।’ এখন ৬০ বছর বয়সে এসেও দিনে ১৬ ঘণ্টার মতো কাজ করেন। রাতে সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান। প্রায়ই মাঝরাতে ভালুকা বা হবিগঞ্জে চলে যান। সুতা ও ডেনিম কারখানায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই উৎপাদন হয়। পুরো কারখানা চক্কর দেন। উৎপাদন দেখেন। তারপর ঘুমাতে যান।

অবসরে কারখানার আশপাশে শাকসবজি ও ফলমূলের চাষ করেন বাদশা মিয়া। কারখানার কাজের ফাঁকে সেখানে সময় কাটান। তার ইচ্ছা, ছেলেদের হাতে ব্যবসার সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে চাষবাসে (বাদশা মিয়ার ভাষায় খেতখামারি) মনোযোগ দেবেন।

বাদশা মিয়ার বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে যারাই কাজ করতে আসেন, তাদের প্রথমে কয়েক মাসের জন্য কারখানায় পাঠিয়ে দেই। সেখানে হাতেকলমে প্রশিক্ষণের পর মূল পদে বসানো হয়। আমরা কী পণ্য, কীভাবে বানাই, সেটিই যদি না জানে তাহলে কীভাবে চলবে। সে জন্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রত্যেক কর্মীকে কারখানায় প্রশিক্ষণের জন্য পাঠাই।’

তরুণদের উদ্দেশে এই ব্যবসায়ীর পরামর্শ, প্রথমে কাজ শিখতে হবে। তারপর সেই কাজের সঙ্গে লেগে থাকতে হবে। তাহলেই সফল হওয়া যাবে। সততা, কঠোর পরিশ্রম ও পণ্যের মানে আপস না করার কারণেই আজকের পর্যায়ে আসতে পেরেছেন মনে করেন বাদশা মিয়া।

বাদশা মিয়া বললেন, ‘আসছি কোথা থেকে? অজপাড়া গাঁ থেকে উঠে এসে শিল্পকারখানা করেছি। হাজার হাজার মানুষের রুটিরুজির ব্যবস্থা করেছি। আজকের পর্যায়ে আসার পর আমার কোনো অতৃপ্তি নেই। আর কী অতৃপ্তি থাকতে পারে, আপনিই বলেন।’

সূত্র-প্রথম আলো

Advertisements

বর্ণমেলা প্রিন্টার্স এন্ড ক্রেস্ট গ্যালারী আমাদের সেবা সমূহ:- ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক, মগ, মেডেল, আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, ক্যালেন্ডার, পোস্টার, পিভিসি ব্যানার, ষ্টিকার সহ সকল প্রকার ছাপার কাজ করা হয় এবং সকল প্রকার সীল তৈরি ও যে কোন অনুষ্ঠানের গেঞ্জী, টিশার্ট প্রিন্ট করা হয়। ঠিকানা: সিডষ্টোর বাজার, ভালুকা, ময়মনসিংহ, মোবাঃ ০১৭১৫২৫৩৩৮৫, E-mail: bornamela03@gmail.com